হাসিনা ফিরলেই বদলে যেতে পারে যে ৫ হিসাব!

08 October 2026, 01:05 AM
হাসিনা ফিরলেই বদলে যেতে পারে যে ৫ হিসাব!
নিউজ ডেস্ক: শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। এখনো পর্যন্ত পুরনো সেই ঘোষণায় বলবদ রয়েছে। কিন্তু তিনি ফিরলে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতির পাঁচটি বড় হিসেব। আইনশৃঙ্খলা থেকে দলীয় কৌশল। ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক থেকে আদালতের লড়াই। একজনের প্রত্যাবর্তনেই পাল্টে যেতে পারে পাঁচটি বড় অংক। হাসিনা ফিরবেন কিনা, কবে ফিরবেন সেটি এখনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়। কিন্তু যদি সত্যি তিনি দেশে ফেরেন তাহলে গল্পটা শুধু বিমানবন্দর থেকে আদালত পর্যন্ত আটকে থাকবে না। তার ঢেউ লাগতে পারে রাজপথ থেকে দিল্লি। দলীয় কার্যালয় থেকে আদালতের এজলাস পর্যন্ত। হাসিনা ফিরলে

যে পাঁচটি বড় হিসেব বদলে যেতে পারে চলুন চোখ ফেরানো যাক সেখানে। একেবারে শেষ থেকেই শুরু করা যাক। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিরছেন এমন একটি দিন। নিশ্চয়ই স্বাভাবিক দিনের মতো হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিমানবন্দর, আদালত, কারাগার কিংবা সম্ভাব্য যাত্রাপথ সবকিছুকে ঘিরেই নিরাপত্তার হিসাব নতুন করে সাজাতে হবে সরকারকে। সমর্থকের আবেগ থাকবে বিরোধীদের ক্ষোভ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকবে গুজবের কারখানা। অর্থাৎ পুলিশের সামনে তখন শুধু ব্যারিকেড সামলানোর কাজ নয়। একদিকে আইন, অন্যদিকে আবেগ। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকবে রাষ্ট্র। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সবচেয়ে বড়

মনস্তাত্বিক প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর। যেই কর্মী এতদিন নীরব তিনি নতুন করে সাহস দেখাবেন কিনা? যে নেতা দূরে সরে আছে সে আবার যোগাযোগ বাড়াবেন কিনা সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ক্ষমতায় থাকা আর বিরোধীকে মোকাবেলা করা দুই ধরনের রাজনীতি। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকলে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য একরকম। কিন্তু তিনি দেশে থাকলে সেই রাজনীতি হঠাৎ হয়ে যেতে পারে দৃশ্যমান। তখন বিএনপিকে ভাবতে হবে তাকে শুধু আইনের বিষয় হিসেবেই দেখা হবে নাকি তার উপস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক কেন্দ্র তৈরি করছে।

বেশি কঠোর হলে সহানুভূতির রাজনীতি তৈরি হতে পারে। আবার বেশি নরম হলে উঠবে সরকারের দীর্ঘতা নিয়ে প্রশ্ন। রাজনীতির এই অংক বড় নিষ্ঠুর। প্রতিপক্ষ দুর্বল থাকলে কৌশল সহজ। প্রতিপক্ষ সামনে এসে দাঁড়ালে প্রতিটি চালি দাবার চাল। অবশ্য এই গল্পে বাংলাদেশের পাশাপাশি আরেকটি বড় চরিত্র ভারত। ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যার পৌণ চেয়েছে। ভারত বলছে বিষয়টি আইনে আর যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হচ্ছে। তাই তিনি কিভাবে ফিরলেন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তণে নাকি অন্য কোন আইনি ব্যবস্থায় সেটিও হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। কারণ

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন মানেই শুধু ঢাকা বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট নামানো নয়। এর সঙ্গেও জড়িয়ে যাবে দিল্লি কাকে আশ্রয় দিল কাকে ফেরালো? আর ঢাকা সেটিকে কিভাবেই বা দেখলো সেই প্রশ্ন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংকটি আদালতে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী শেখ হাসিনা ফিরলে তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান রায় আইনি প্রক্রিয়ায় সামনে আসবে। সরকারের কর্মকর্তারাও বলেছেন তাকে আইনগত প্রক্রিয়ায় মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু আদালতের বাইরে চলবে আরেক আদালত। একপক্ষ তুলবে বিচার আর রায় কার্যকরের আওয়াজ। আরেক পক্ষ বলতে পারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। সরকার বলবে আইন সবার জন্য সমান। ফলে

প্রতিটি শোনানিতে কেবল বিচারিক খবর থাকবে না। হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক সংবাদও। আর এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিচারকে এমনভাবে দৃশ্যমান করা যাতে মানুষ দেখতে পায় আইন তার নিজের গতিতে চলছে। রাজনীতি আদালতের পোশাক পড়ে হাঁটছে না। শেখ হাসিনা ফিরবেন কিনা সেটি ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু তিনি ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একজন মানুষ যোগ হবে এমনটি নয়। যোগ হতে পারে নতুন উত্তেজনা। নতুন কৌশল, নতুন কূটনৈতিক হিসেব। তাই শুধু একজন ফিরলেই বদলে যেতে পারে পাঁচটি অংক। কিন্তু সেই অংকে কে লাভ করবে? আর কার কার হিসেব মিলবে না সেটাই হতে পারে পরবর্তী রাজনীতির সবচেয়ে বড় গল্প।