হাতে ৫০ দিন, শেখ হাসিনা সত্যি ফিরছেন? তারপর কী হবে বাংলাদেশে?

08 October 2026, 01:05 AM
হাতে ৫০ দিন, শেখ হাসিনা সত্যি ফিরছেন? তারপর কী হবে বাংলাদেশে?
নিউজ ডেস্ক: অক্টোবর ২০২৬ ঢাকা বিমানবন্দর স্বাভাবিক সীমান্তে কাটা তার স্বাভাবিক কিন্তু দিল্লির একটি অদৃশ্য জায়গা থেকে আসা একটি ঘোষণায় সবকিছু অস্বাভাবিক হাতে আর মাত্র ৫০ দিন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরবেন এই একটি লাইনেই রাজনীতি আবার গরম তিনি ভিডিওতে আসেননি এসেছেন অডিও বার্তায়  লন্ডনের সেমিনারে অডিও পরে রয়েটারস এএফপি আর এনডিটিভি কে দেয়া সাক্ষাৎকারেও একই কথা তিনি বলেছেন তিনি ফিরবেন গ্রেফতার বা মৃত্যুর ঝুকি যেনও ফিরবেন।

তার ভাষ্যমতে মৃত্যু যদি আসে তবে নিজের মাটিতেই  আসুক। গত এক বছরে তার কোন প্রকাশ্য ভিডিও আসেনি। সব বার্তা অডিওতে।  অডিওতে শুধু কন্ঠ থাকে। শারীরিক অবস্থা বোঝা যায় না। ৭৯ বছর বয়সী একজন রাজনীতিবিদের জন্য কন্ঠটাই এখন প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। এই ঘোষণার পর আইনি বাস্তবতায় গেলে দেখা যায় ফেরার আইনি দরজাটা এখনো বন্ধ। কারণ তার হাতে এখন নেই কোন বৈধ পাসপোর্ট। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে  ৯৭ জনের সাথে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করে। সেই থেকে তিনি ভারতে আছেন একটি বাড়ানো ভিসায় যার মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাড়ানো হয়।

এদিকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে পাসপোর্ট বাতিলের পর ভিসার কার্যকারিতা থাকে না। ভারতের হাই কমিশনার দনেশ ত্রিবেদী ৩ অক্টোবর ঢাকায় বলেছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বিমান আসার সময় কোন বিকল্প ছিল না ভারতের সামনে। ভারত তাকে অতিথি হিসেবে থাকতে দিচ্ছে। ঠিক কোথায় আছেন তা প্রকাশ করা হয়নি। রাইটার্স বলেছে গোপন ভাষা ভারত সরকার বলেছে সুরক্ষিত স্থান। এখন প্রশ্ন ফিরতে হলে কাগজ পাবেন কিভাবে? ফিরতে হলে তাকে বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে একটি ভ্রমণ অনুমতিপত্র নিতে হবে। হাই কমিশন সরকারের নির্দেশ ছাড়া এই কাগজ দেয় না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঞ্জিল মরশেদ এই একই কথা জানিয়েছেন। তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের উদাহরণ দিয়েছেন। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ যখন ভারতে ছিলেন আইনি প্রক্রিয়া শেষেও তৎকালীন সরকার তাকে ভ্রমণ কার্ড দেয়নি বলে তিনি সময়মতো ফিরতে পারেননি।

এখন একই নিয়মের মুখোমুখি হতে পারেন শেখ হাসিনাও। অনেকেই মনে করছেন ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তিতে তাকে পাঠিয়ে দেবে। আইন বলছে অন্য কথা। ভারত বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি হয় ২০১৩ সালে। সংশোধন হয় ২০১৬ সালে। চুক্তির নাম বন্দি বিনিময়। মানে যিনি ওই দেশে বন্দি আছেন তাকে ফেরানো। শেখ হাসিনা ভারতে বন্দী নন। তাই চুক্তি সরাসরি প্রয়োগ করা কঠিন। ভারতের হাতে আছে দুটি পথ। হয় তাকে বের করে দেয়া যেটাকে বলে রিপোর্ট। নয়তো বাংলাদেশের অনুরোধ আইনি পরীক্ষা করা। দ্বিতীয় পথটাই এখন চলছে। বাংলাদেশ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চিঠি দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জুলাই মাসে জানায় অনুরোধ পরীক্ষা চলছে। আর এই পরীক্ষার ভেতরে আইনে যে সূক্ষ দিক আছে তাকেও দেখছি না।

চুক্তির ছয় নম্বর ধারা বলছে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধে ফেরত নাও দেয়া যেতে পারে। কিন্তু একই ধারার পরের অংশে বলা হয়েছে খুন অপহরণ সন্ত্রাস বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ কখনোই রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আবার আট নম্বর ধারা বলছে অভিযোগ সৎ উদ্দেশ্যে না হলে বা ফেরত পাঠানো অনাজ্য হলে ভারত অস্বীকার করতে পারে। অ্যামনেস্টি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও প্রশ্ন তুলেছে। এই বক্তব্যগুলো ভারতের আইনি ফাইলে আছে। ভারতের [নাক ডাকা] ভেতরেও এই নিয়ে দুটি মত আছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমেও  ইঙ্গিত এসেছে। এ মানচিত্রের সাথে জুড়ে আছে একটি রাজনৈতিক নথি। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে নয় দফার কথা এসেছে।

এর মধ্যে আছে নিত্যপণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার নিরবিচ্ছিন্ন করা, বন্ধ কারখানা খোলা, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। খেয়াল করার বিষয় এখানে ব্যক্তিগত [মিউজিক] মুক্তি নিয়ে কোন দাবি নেই। সব দাবি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে। এখান থেকে প্রশ্ন আসে তিনি কোন পথে ফিরবেন? দলের ভেতরে দুটি পথ নিয়ে কথা হচ্ছে বলে খবর এসেছে। একটি আকাশপথ সরাসরি ঢাকা অন্যটি স্থলপথ  পেত্রাপোল বেনাপল সীমান্ত দিয়ে। দ্বিতীয় পথটি নিয়ে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত লং মার্চের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

ফেরার ঘোষণা একটি অধ্যায়। ফেরার পরের বাস্তবতা আরেকটি অধ্যায়। যেটা আরো জটিল। আইনমন্ত্রী বলেছেন ফিরলেই গ্রেফতার আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগও পাবেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান কৌশলী তাজুল ইসলাম বলেছেন সোজা কারাগারে বাংলাদেশের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জন্য আলাদা নিয়ম আছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৯ বছর বয়সী নারী তার জন্য কি ব্যবস্থা হবে তা কারা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হবে। এবার আসি এই ফেরার ঘোষণাকে বর্তমান দলগুলো কিভাবে দেখছে? বিএনপি দেখছে সতর্কভাবে। তাদের বক্তব্য এটি আইন আর আদালতের বিষয় আইন তার নিজের গতিতে চলবে জামায়াতে ইসলামের অবস্থান আইনি তারা বলছে

ট্রাইবুনালের রায় কার্যকর করতে হবে আর জাতীয় পার্টির মত ছোট দলগুলো আছে দোটানায় তারা প্রকাশ্যে কোন পক্ষেই যাচ্ছে না তবে সব দলের ভেতরের হিসাবটা এক জায়গায় মিলে গেছে ডিসেম্বর মানে নির্বাচনের তফসিলের মাস নির্বাচনের আগে বড় অস্থিরতা হলে তফসিল পিছিয়ে যাবার ঝুঁকি থাকে যেটা কোন দলই চায় না তাই মুখে হয়তো সবাই বলবে আমরা শান্তিপূর্ণ থাকবো আইন আইনের পথে চলবে কিন্তু  ভেতরে ভেতরে সবাই এই ফেরার ঘটনাটাকে নিজেদের ভোটের হিসাবে মিলাচ্ছে। গ্রেফতারের পর তার রাজনীতি কিভাবে চলবে সেটা বুঝতে হলে নিষেধাজ্ঞার দিকে তাকাতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১২ই মে ২০২৫ এ গ্যাজেট দিয়ে আওয়ামী লীগের সব ধরনের প্রকাশনা অনলাইন প্রচার মিছিল সভা নিষিদ্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন স্থগিত করেছে। হাইকোর্টের রিট খারিজ হয়েছে। এতেই তিনি জেলে গেলে দল আইনত কোন কর্মসূচি করতে পারবে না। তাহলে ফেরার রাজনৈতিক অর্থ কি? একটি [গলা পরিষ্কার করা] ব্যাখ্যা হলো জেলে বসে দেয়া বক্তব্যের ওজন আর বিদেশে বসে দেয়া বক্তব্যের ওজন এক না। এখন প্রশ্ন আসে তার সাথে কে কে ফিরবেন? তিনি নাম বলেছেন শুধু একজনের আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বাকিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যে এমন অনেক নাম থাকতে পারে যাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড নেই কিন্তু অন্য মামলা আছে। অর্থাৎ তারা ফিরলে জামিন পেতে পারেন। এতে এটি দুটি স্তরের ফেরা হতে পারে। এক স্তর জেলে যাবে আরেক স্তর জামিনে থেকে সংগঠন গোছাবে। এই গোপন তালিকার পাশে আরেকটি গোপন হিসাব আছে। ডিসেম্বর মাসটাই কেন? সবাই বলছে বিজয়ের মাস। আরেকটি হিসাব হলো নির্বাচনের তারিখ। আওয়ামী লীগের তো নিবন্ধন স্থগিত। নির্বাচনের ঠিক আগে ফেরার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল হিসেবেও কেউ কেউ দেখছেন। আবার সরকারের দিক থেকে দেখলে এই সময় ফেরা আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। এ ঝুঁকির মধ্যে আরেকটি চাপ আছে।

যেটা দলের ভেতরের। ডিসেম্বরে না ফিরলে কি হবে? দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের চাপ আছে বলে আলোচনা আছে। তৃণমূলের  একটি অংশ নতুন নেতৃত্ব চায়। ডিসেম্বরকে ডেডলাইন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার এই দেশের বাইরের দিকে তাকানো যাক। সেখানে সবাই চুপ। এই ঘটনায় ওয়াশিংটন বলেছে এটি বাংলাদেশ ও ভারতের বিষয়। এই চুপ থাকাটা  অনেকেই খেয়াল করেছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় আমেরিকার সড়ক ছিল।

এখন চুপ থাকার মানে তারা বর্তমান সরকারকে সময় দিতে চায় বলে কেউ কেউ মনে করছেন। চীনও চুপ। কারণ তারা দেখতে চায় আওয়ামী লীগ  ছাড়া বাংলাদেশে আর তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ কিনা? ফিরলেই কি সবশেষ আইনের পদ্ধতিটা কি হবে? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন কিনা? আত্মসমর্পণ করলে মৃত্যুদণ্ডের রায় কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে? নাকি তাকে কারাগার থেকেই আপিল করতে হবে? এই আইনি প্রক্রিয়াটা এখনো পরিষ্কার না।

এই মারপাচের মধ্যেই আরেকটি প্রশ্ন আসে। তিনি জেলে গেলে দলের মুখপাত্র কে হবে? এখন অনলাইন বৈঠক তিনি নিজে করছেন। জেলে গেলে সে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে? তাহলে কি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নাকি বনরিহানা? নাকি দ্বিতীয় সারির কোন নেতা সামনে আসবে? এ নেতৃত্বের শূন্যতাই হবে দলের ভেতরে সবচেয়ে বড় সংকট। আর এই সংকটের মধ্যেই শুরু হবে জেল গেটের রাজনীতি। তিনি জেলে গেলে তার সাথে কে দেখা করতে পারবে? পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতা। এদের তালিকা কারা ঠিক করবে? আর যে দেখা করতে পারবে সেই দলের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জেল গেটে কে যাবে কে যাবে না? এটাই তখন হয়ে যাবে রাজনীতি। সবশেষে মাঠের বড় অংশ তরুণ ভোটাররা। ২০২৪ সালের পর তারা নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আছে। তাদের প্রত্যাশা চাকরি, দ্রবমূল নিয়ন্ত্রণ আর স্থীতিশীলতা।  ফেরার ঘোষণা এই প্রত্যাশার সাথে কিভাবে যুক্ত হবে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই ডিসেম্বরের বার্তা শুধু  একজন রাজনীতিবিদের ফেরার তারিখ নয়। এটি দেশের ভবিষ্যৎ পথ চলারও একটি অংশ